ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা (Cancer patient food list)

 আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের

সাথে ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা নিয়ে সকল তথ্য আলোচনা করব। 

ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা
ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা

তাহলে চলুন আমাদের আজকের আলোচনা শুরু করি।

আঙুর-

এই ফল ক্যান্সারের জন্য অনেক উপকার করে থাকে। Resveratrol নামক প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সাইডের উত্স হচ্ছে এই আঙুর। আমাদের শরীরে এই রোগ হয়ে থাকে জন্ম থেকে এবং  ছড়িয়ে পড়তে থাকা প্রত্যেকটা ধাপেই রোগকে বাধা দিতে থাকে আঙুর বা Resveratrol.

কিউই-

কিউই-তে আছে অনেক বেশি পরিমানে ভিটামিন-সি আর ক্যান্সারের সাথে লড়ার মত সক্ষম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাছাড়া ও এই ফলের মধ্যে থাকা ফোলাটেস, ক্যারোটিনয়েডস ও ভিটামিন-সি আমাদের শরীরে ক্যান্সারের প্রভাবকে কমিয়ে দিয়ে থাকে এবং আমাদের শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

ব্রকোলি

অনেক বেশি পরিমানে অ্যান্টিঅক্সাইড, ফাইবার, ফ্ল্যাভোনয়েডস এই সমস্ত জিনিসগুলো দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে ব্রকোলি। ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ যে পরিমানে ক্ষতিসাধন করে সেটার কবল হতে মুক্ত করার জন্য ব্রকোলির বলতে গেলে অনস্বীকার্য। তাছাড়াও আক্রান্ত কোষের বৃদ্ধিকে কমিয়ে দিতেও সাহায্য করে থাকে এই 'গ্রিন ভেজিটেবিল'টি। 

রসুন

রসুনের মধ্যে আছে অনেক বেশি পরিমাণে সালফার। আর তার সাথে আছে আর্জিনাইন, অলিগোস্যাচারাইডস, ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং সেলেনিয়াম। যেটা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অনেক  উপযোগী। গবেষণা করার পরে রিপোর্ট বলা হয়েছে যে, যদি কেউ প্রত্যেক দিন রসুন খেতে পারেন, তবে তাঁর পাকস্থলী, কোলন, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয় আর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। 

বেরি 

ব্যাকবেরি, ব্লুবেরি আর স্ট্রবেরি খাওয়া শুরু করে দিবেন প্রতিদিন। কারণ এগুলোর মধ্যে  pterostilbene অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ রয়েছে, যেটা ক্যান্সার প্রতিরোধী হিসেবে সকলের কাছে অনেক সুপরিচিত।

আদা

ক্যান্সার রোগী যারা আছেন তাদের জন্য উচ্চ রেডিয়েশন সম্পন্ন কেমোথেরাপি চলার কারনে অনেক সময়তে দেখা যায় প্রবল পরিমানে বমি ভাব দেখা দিতে থাকে। আর এই এক্ষেত্রে আদা এবং  আদার লজেন্স খুব ভালো ভাবে কাজ করে। প্রত্যেক বেলার খাবার খাওয়ার আগে আপনাকে অল্প কিছু পরিমাণে আদা যদি খেতে পারেন তবে আপনাদের পেট আর পাকস্থলীতে ভালো বোধ হতে থাকবে। যার কারনে আপনাদের আর খাবার খাওয়ার সময়ে কষ্ট হবে না।

রসুন

কেমোথেরাপি গ্রহন করার কারনে স্বাভাবিক ভাবেই রোগী আগের থেকে অনেক বেশি পরিমানে  দুর্বল হয়ে পড়েন। আর যার ফলে দেখা যায় যে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাহায্য করে থাকেন  এমন খাদ্য উপাদান গ্রহণ করা অনেক দরকার হয়ে পড়ে। কারণ, এতে করে দেখা যায় আমাদের শরীরে শক্তি সঞ্চয় হতে থাকে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ায় করতে সাহায্য করে। তাই প্রত্যেক দিন কম করে হলেও আপনারা ২ থেকে ৩ কোয়া পর্যন্ত রসুন খাবেন দরকার হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য হলেও খাবেন।

মাশরুম

উচ্চ পুষ্টিগুন সম্পন্ন মাশরুম আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং  ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও অনেক সাহায্য করে থাকে। শতাব্দীর পরে শতাব্দী ধরেই  মাশরুম রোগ নিরাময় করতে ব্যাবহার করা হয়ে আসছে।

নরম ভাত

শক্ত ভাত খাবেন না নরম ভাত খাবার চেষ্টা করবেন। কেননা নরম ভাত অনেক তাড়াতাড়ি হজম হয়ে দ্রুত শক্তির যোগান দিয়ে থাকে। ডায়াবেটিস যদি থাকে তবে আপনারা প্রতিদিনে ২ বারের থেকে ও বেশি ভাত না খাওয়াই ভালো হবে। ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ সব্জির ঝোল খাওয়া অনেক ভাল।

স্যুপ

খুব সহজেই হজম করে দ্রুত শক্তি যদি পেতে চান তবে আপনাকে স্যুপ খেতে হবে।

মাছ

মাছের শরীরে ওমেগা- চর্বি রয়েছে আর এটা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে এবং যার কারনে আমাদের হার্ট অনেক ভালো থাকে। ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার জন্যই ভালো কোষকে শক্তি দিয়ে থাকে। তাই প্রত্যেকদিন অনেক বেশি পরিমানে মাছ খাবেন। মাছ সহজপাচ্য একটি খাবার তবে এটা প্রটিনের ভাণ্ডার বলা যায়। 

আমাদের শেষ কথা

তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা  ক্যান্সার রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে জানতে পারলেন। আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক ভাল লেগেছে। আর এই রকমের বিভিন্ন তথ্য পেতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথেই থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

Post a Comment

Previous Post Next Post